কুখ্যাত হুন সম্প্রদায় এবং রোমান সাম্রাজ্য ১ম পর্ব

 কুখ্যাত হুন সম্প্রদায় এবং রোমান সাম্রাজ্য☣️

°°°°°°°°°°°°°°°°°°′°°১ম পর্ব°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
কুরলুস উসমান ১০২ভলিউম যারা দেখেছেন তারা ১ঘন্টা ১১মিনিট ৯সেকেন্ড এ এই
"আট্টিলার" নামটি অবশ‌্যই শুনেছেন, আজ পরিচয় করিয়ে দিবো সেই আট্টিলার হুন জাতি সম্পর্কে....


⭕হুন জাতির পরিচয়ঃ-
হুনরা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং আলোচিত যাযাবর যোদ্ধা জাতি। কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী অঞ্চল থেকে উঠে এসে চতুর্থ এবং পঞ্চম শতাব্দীতে এরা ইউরোপের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং রোমান সম্রাজ্যে নিজেদের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। তুখোড় অশ্বারোহী বাহিনী এবং নিপুণ রণকৌশল ইতিহাসে তাদের অমর করে রেখেছে। ইউরোপ দখলের পথে বর্বরোচিত অত্যাচার, ধর্ষণ, লুন্ঠণ হুন জাতিকে সে সময়ে কুখ্যাতির চরমে পৌঁছে দিয়েছিল।
⭕হুন জাতির আদিনিবাসঃ- গবেষকদের একটা অংশের দাবি হুন জাতির আদিনিবাস কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী অঞ্চলে। আরেক দল গবেষক বিশ্বাস করেন খ্রিস্টপূর্ব ৩১৮ সালে চীনের ছিন (Qin) রাজত্ব চলাকালীন শিয়ংনু যাযাবর জাতি থেকেই আলাদা জাতি হিসেবে জন্ম নেয় হুন জাতি। উল্লেখ্য যে, চীনের বিখ্যাত “গ্রেট ওয়াল” নির্মাণ করা হয়েছিলো তৎকালীন পরাক্রমশালী শিয়ংনু জাতির আক্রমণ থেকে চীনকে রক্ষা করার জন্যই।
⭕হুনরা দুই প্রকারের,
১,(Black Hunas)কৃষ্ণ হুন,এরা ইউরোপে প্রবেশ করে রোমান সম্রাজ্যকে বিধ্বস্ত করে,
২,(White Hunas)শ্বেত হুন,আর এরা পারস্যের সাসানীয় বংশের সম্রাজ ফিরোজকে পরাজিত করে সম্রাজ্য দখল করে শক্তিশালী হয়, পরবর্তীতে,৪৮৫খ্রীঃ পারস্য ও কাবুলে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে
⭕এই জাতির দীর্ঘ কয়েক শতাব্দীর কোন ইতিহাস এখন পর্যন্ত জানা যায় নি। চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই জাতিটি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ভ্রমণ করা শুরু করে। এসব দলের জন্য একজন করে নেতা নির্বাচন করা হতো। তবে এদের কেন্দ্রীয় কোন নেতা বা রাজা ছিলো না। ৩৭০ সালের দিকে এরা ইউরোপে এসে পৌঁছায় এবং একের পর এক ছোটো রাজ্য দখল করে ৭০ বছর যাবত একটানা শাসন করে।
⭕হুনরা ইতিহাসের অন্যতম সেরা অশ্বারোহী যোদ্ধা জাতি। কথিত আছে, তারা ঘোড়ার পূজা করতো এবং ঘোড়ার পিঠেই ঘুমাতো। হুনরা তাদের সন্তানদের মাত্র ৩ বছর বয়স থেকেই অশ্বারোহন শেখাতো। অল্প বয়স থেকে যন্ত্রণা সহ্য করার স্বক্ষমতা আনতে তাদের মুখ তলোয়ার দিয়ে কেটে দেওয়া হতো। অল্প বয়স থেকেই একজন পাঁকা যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলা হতো প্রত্যেকটা হুন শিশুকে।
হুন সৈন্যরা সাধারণ পোশাক পরিধান করতো। তবে আভিজাত্যের জানান দিতে অনেকেই সোনা, রৌপ্য এবং মূল্যবান পাথর ব্যবহার করতো। যাযাবর জাতি হওয়ায় এক জায়গায় খুব বেশীদিন স্থায়ী হতো না এরা। খাদ্যের যোগান দিতে হুনরা গবাদি পশু পালন করতো। হুনদের খাবার তালিকায় ছিল বুনো ওল, শিকড় ও নানারকম গুল্ম। আদিম সভ্যতার জাতিগুলোর মতো এরাও একসাথে শিকার করতো এবং সবাই মিলে একসাথে খেতো।
⭕হুনদের রণকৌশল ছিলো অনন্য। যুদ্ধের ময়দানে অশ্বারোহী বাহিনী খুব দ্রুত এবং বিক্ষিপ্তভাবে অগ্রসর হতো। তাদের ক্ষীপ্রতা দেখে প্রতিপক্ষ দলের যোদ্ধারা বিভ্রান্ত হয়ে ময়দান ছেড়ে পালাতো। হুন যোদ্ধারা হাড়ের তৈরি এক বিশেষ ধরণের ধনুক ব্যবহার করতো। তাদের ধনুকের তীর প্রায় ৮০ গজ দূর পর্যন্ত শত্রুর হৃদপিণ্ড এফোঁড় ওফোঁড় করে দিতো। আর হুন তীরন্দাজদের নিশানাও ছিলো নির্ভুল। তাদের তীরের নিশানা থেকে বেঁচে ফেরা একরকম অসম্ভবই ছিলো। যুদ্ধের ময়দানে হুনদের হিংস্রতা আর নৃশংসতা শত্রুদের আত্মা কাঁপিয়ে দিতো।
⭕জানা যায় যে, হুনরা তাদের সন্তানদের মাথায় একধরণের বিশেষ বন্ধনী পড়িয়ে দিতো। এই বন্ধনী ধীরে ধীরে তাদের মাথাকে এক ভয়ানক বিকৃত রূপ দিতো। যা দেখেই প্রতিপক্ষ যোদ্ধাদের কলিজা হিম হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো।🗿🗿
⭕হুনদের নৃশংসতা থেকে নারী শিশু কিংবা বৃদ্ধ কেউই বাদ যেতো না। চলার পথে চোখের সমানে যাকে পেতো তাকেই নৃশংসভাবে খুন করতো এরা। বাড়িঘর লুটপাট করে আগুণ ধরিয়ে দিতো অথবা একদম মাটির সাথে গুড়িয়ে দিতো। এছাড়া শক্তি সামর্থ্য বিবেচনা করে কিছু মানুষকে বন্দী করে দাস বানিয়ে রাখতো।
⭕৩৭০ সালের দিকে হুনদের ইউরোপ আগমন এক ঐতিহাসিক মোড় নেয়। সে বছর তারা ভলগা নদী অতিক্রম করে ইউরোপ অঞ্চলে প্রবেশ করে আরেক যাযাবর জাতি অ্যালান্স-কে সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত করে ঐ এলাকা দখল করে নেয়। আলান্সও ছিলো ঘোড়া সওয়ার যাযাবর জাতি।
⭕দুই বছর এই এলাকায় কাটানোর পর হুনরা জার্মানিক গথসের পূর্ব দিকের ওস্টরোগ্রোথ উপজাতিদের আক্রমণ করে বসে। নিয়মিত বিরতিতে রোমান অধ্যুষিত এই এলাকায় আক্রমণ করে হুনরা রোমানদের হয়রানি করতে শুরু করে। ৩৭৬ সালের দিকে হুনরা গোথের পশ্চিমের উপজাতি ভিসিগোথসদের ( Visigoths) আক্রমণ করে এবং তাদের রোমান সম্রাজ্যের অভ্যন্তরে বিতারিত করে। কয়েক বছরের যুদ্ধে বহুসংখ্যক অ্যালান্স, গথ এবং ভিসিগথস যোদ্ধাদের আটক করে তারা নিজেদের পদাতিক সেনাদলে ভর্তি করে দেয়। হুনদের হাত থেকে পালানোর কোন উপায় ছিলো না এই সৈন্যদের। তাই প্রাণ বাঁচাতে হুনদের হয়ে যুদ্ধ করতে হতো তাদের।
⭕কিছুদিনের মধ্যেই ইউরোপজুড়ে হুনদের কুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই তাদের পরাক্রমশালী হিসেবে মেনে নেয়। ৩৯৫ সাল পর্যন্ত হুনরা রোমান অধ্যুষিত আশপাশের এলাকাগুলোতে নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে হয়রানি করতো। রোমানদের মধ্যে তখন একটা ধারণা ছড়িয়ে পড়েছিলো, হুনরা জাহান্নম থেকে আগত শয়তানের সেনাদল। এদের পরাজিত করা অসম্ভব।
⭕৪৩০ সালের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা হুনরা এক এক করে ইউরোপের এই অঞ্চলে এসে জড়ো হতে থাকে। এই সময়টাতে হুনদের নেতৃত্ব দিয়েছিলো রাজা রুগুলিয়া এবং তাঁর ভাই অক্টার। ৪৩২ সালে রোমানদের সাথে এক যুদ্ধে অক্টারের মৃত্যু হলে রুগুলিয়া একাই হুনদের উপর রাজত্ব কায়েম করেছিলো। এই সময়টাতে রুগুলিয়া রোমান সম্রাট থিয়োডিসিয়াসের সাথে এক যুগান্তকারী চুক্তি করে। এই চুক্তি অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ উপঢৌকনের বিনিময়ে গোথদের পরাজিত করার জন্য হুনরা থিয়োডিসিয়াসকে সাহায্য করে। রোমানদের সাথে এমন চুক্তির পরই পঞ্চম শতাব্দীর শুরুর দিক থেকে হুন জাতি হাঙ্গেরিয়ান সমভূমি অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে।
(২য় পর্বে আসছে ভয়ংকর হুন যোদ্ধা (Attila)আট্রিলা)
✍️মোঃ মনিরুল ইসলাম ( M.H. Rãâz )প্রকাশক শামের পথিক
প্রচারে: শামের পথিক
সিইও: Hamid Khan
Categories:
Similar Videos

0 Comments: